ব্যুরো নিউজ, ২৮ মে ২০২৬ঃ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই দলের অন্দরে বড়সড় ফাটল দেখা গেল। এবার তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন। সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন শান্তনু সেন।
সূত্রের খবর, আর জি কর কাণ্ড, অভয়া কাণ্ড এবং চাকরি চুরির মতো একাধিক পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তিনি। নিজের ইস্তফাপত্রে এবং একটি ভিডিও বার্তায় শান্তনু সেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের মুখপত্র হিসেবে এতদিন তাঁকে এমন অনেক অনৈতিক কাজকে সমর্থন করতে হয়েছে, যা তাঁর বিবেক সায় দেয়নি। দিনের পর দিন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সেইসব অনৈতিক কাজকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের তীব্র কটূক্তিও তাঁকে হজম করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু ২০২৬ সালের চৌঠা মে বাংলার মানুষ বিপুল ম্যান্ডেটের মাধ্যমে যখন বুঝিয়ে দিলেন যে চাকরি চুরি, আরজি কর কাণ্ড, অভয়া কাণ্ড সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা রায় দিয়েছে, তখন সেই মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়ে হার স্বীকার করা উচিত।” তাই মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে এরপরে তাঁর মন আর কোনওভাবেই এই ধরনের দুর্নীতিগুলোকে সমর্থন করতে সায় দিচ্ছে না।
তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শান্তনু সেন। দল যখনই যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। তবে আর জি কর কাণ্ডের সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল, যদিও নির্বাচনের ঠিক আগে সেই সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শান্তনু সেনের এই পদক্ষেপ নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙন ধরেছে, তাকে আরও গভীর করবে। এই ঘটনা শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।








