সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলা: ‘আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল’, গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তৃণমূল সাংসদের

সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলার পর গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ। ভাঙা চশমা দেখিয়ে বললেন, 'মেরে ফেলতে চেয়েছিল আমাকে'। বিজেপির বহিরাগতদের দায়ী করলেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ মে ২০২৬ঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নজিরবিহীন শারীরিক হেনস্থার শিকার হওয়ার পর এবার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার (৩০শে মে, ২০২৬) ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ভাঙা চশমা হাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে দাবি করেন, “মেরে ফেলতে চেয়েছিল আমাকে।” একই সঙ্গে এই ঘটনা রুখতে ব্যর্থতার দায়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পুলিশ-প্রশাসনকেও তীব্র নিশানা করেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা নন, বরং বিজেপির ‘বহিরাগতরা’ জড়িত। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক বহিরাগতদের এনেই এই হামলা চালানো হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কলকাতার বেলেঘাটা হয়ে সোনারপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথে কালীঘাটে সিআইডি-র একটি নোটিসও গ্রহণ করেন অভিষেক। তবে সোনারপুরে ঢোকার আগে থেকেই পাটুলির কাছে ঢালাই ব্রিজ থেকে কামরাবাদ পর্যন্ত কালো পতাকা হাতে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

বহু জায়গায় বিক্ষোভকারী মহিলাদের হাতে ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, একসময় নিজের চারচাকা গাড়ি ছেড়ে মোটরবাইকে চড়তে বাধ্য হন অভিষেক। এরপরও বিক্ষোভকারীরা তাঁর গতিপথ আটকে জুতো ও ডিম ছোড়ে, শার্ট ছিঁড়ে দেয় এবং চশমা ভেঙে ফেলে। নিজের মাথা বাঁচাতে তাঁকে ক্রিকেট হেলমেট পরতে হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অভিষেক ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ এবং শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেন। অন্যদিকে, বিজেপি এই হামলাকে ‘জনরোষ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “আমরা সংযত বলেই তৃণমূল অক্ষত!” এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।