দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করল তৃণমূল, স্পিকারকে চিঠি

দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। স্পিকারকে চিঠি পাঠাল দল।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১ জুন ২০২৬ঃ তৃণমূল কংগ্রেস দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও এই বহিষ্কারের ফলে ঋতব্রত ও সন্দীপনের বিধানসভার সদস্যপদ আপাতত খোয়া যাচ্ছে না, তবে তাঁরা আর তৃণমূলের বিধায়ক হিসেবে গণ্য হবেন না।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শাসকদল এক সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করেছে। দলের অন্দরে বেশ কিছুদিন ধরেই বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একটি জোট তৈরি হচ্ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই বিধায়ককে দল থেকে বের করে দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কার্যত সেই গজিয়ে ওঠা বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর ভিতটাই নাড়িয়ে দিতে চাইল। এর ফলে, যদি পরেও তৃণমূলের অন্দরে সেই বিক্ষুব্ধ বিধায়ক গোষ্ঠী অস্তিত্ব বজায় রাখে, তাহলেও ঋতব্রত বা সন্দীপন আর তার রাশ নিজেদের হাতে রাখতে পারবেন না, কারণ তাঁরা আর তৃণমূলের বিধায়কই রইলেন না।

অন্যদিকে, সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার ‘সই জাল-কাণ্ড’ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই সই জালিয়াতির ঘটনায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাই প্রথম স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশমন্ত্রী হিসেবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তথা সিআইডি-কে তদন্তপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করার নির্দেশ দেন।

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের পরপরই ঘাসফুল শিবির তড়িঘড়ি এই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে সন্দীপন সাহা বলেন, “আমরা পক্ষপাতদুষ্ট কাজে নিজেদের যুক্ত করতে চাই না। যেখানে বিধানসভার আইন মানা হচ্ছে না, সেটা অধ্যক্ষের গোচরে আনা আমাদের কর্তব্য। দল যা করতে চায় তাই করবে।”