ব্যুরো নিউজ, ২ জুন ২০২৬ঃ “অপারেশন জোড়াফুল” প্রায় শেষের পথে। তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী গরিষ্ঠ সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন আদায়ে সফল হয়েছে বলে খবর। কালীঘাটের মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে একটি পৃথক ওয়াররুমে বসে এই বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছে। তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৫৪ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন দল ভাঙানোর জন্য।
সূত্রের খবর, সোমবার রাতের মধ্যেই সেই লক্ষ্য প্রায় পূরণ হয়ে গেছে। রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বিধায়ক দলের বৈঠকে মাত্র ১৯ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন, যা ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটকে রীতিমতো বিঁধেছে। এই ঘটনার পরই “অপারেশন জোড়াফুল” আরও গতি পায়। বিক্ষুব্ধ শিবিরে ইতিমধ্যেই হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার দুই প্রাক্তন মন্ত্রী সহ প্রায় ৩০ জন বিধায়ক সই করেছিলেন। সোমবার রাতে আরও ২০ জন বিধায়ক যোগ দেন, যার মধ্যে কিড স্ট্রিটের এমএলএ হোস্টেলে শিউলি সাহার সই করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
পরিস্থিতিতে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কিছু সংখ্যালঘু বিধায়ককে ফোন করেন। শোভনদেব দাবি করেন, সংখ্যালঘু বিধায়করা মমতাকে ছেড়ে যাবেন না। তবে বিক্ষুব্ধ শিবিরের এক বিধায়ক এই মন্তব্যকে ‘স্বপ্নজগৎ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের দাবি, কলকাতার এক সংখ্যালঘু বিধায়ক সহ বহু মুসলিম বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিক্ষুব্ধ শিবিরে সই করে ফেলেছেন। ৫৪ জন বিধায়ক সই করার পর বুধবার তাঁদের বিধানসভায় ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই রাজনৈতিক নাটকের পরবর্তী অধ্যায় কী হয়, সেটাই এখন দেখার।








