পাকিস্তানে ফরাসি তরুণীকে গণধর্ষণ: ২ দোষীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল উচ্চ আদালত

পাকিস্তানে সন্তানদের সামনে ফরাসি তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ২ দোষীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল লাহোর হাইকোর্ট। ২০২০ সালের পাশবিক ঘটনার বিচার নিশ্চিত হলো।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪ জুন ২০২৬ঃ পাকিস্তানের লাহোর হাই কোর্ট এক ফরাসি তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত দুই যুবকের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছে। বুধবার উচ্চ আদালত তাদের প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করে দেয়। এই রায় পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং অপরাধীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিচ্ছে।

ঘটনাটি ২০২০ সালের। নির্যাতিতা তরুণী তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে পাকিস্তানে ঘুরতে এসেছিলেন। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি লাহোর থেকে গুজরানওয়ালা প্রদেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লাহোর হাইওয়েতে তাঁর গাড়ির তেল ফুরিয়ে যায়। বিপদের মুহূর্তে তিনি স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান এবং স্বামীর পরামর্শে পুলিশকেও খবর দেন। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই আবিদ আলি এবং শাফকাত আলি নামের দুই যুবক সেখানে হাজির হয়। তারা গাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে ওই তরুণীকে বাইরে বের করে এবং তাঁর দুই সন্তানের সামনেই পাশবিক গণধর্ষণ করে। এই জঘন্য অপরাধের পর দুষ্কৃতীরা ওই তরুণীর তিনটি এটিএম কার্ড, নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।

যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দু’জনেই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেয়, যা মামলার নিষ্পত্তিতে সহায়ক হয়। তথ্যপ্রমাণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের সন্ত্রাসদমন আদালত দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা লাহোর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে উচ্চ আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখল। এই রায়ে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত হলো এবং সমাজে এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলল।