ব্যুরো নিউজ, ৫ জুন ২০২৬ঃ ২০২৬ সালের জুন মাসের শুরুতে গুজরাট পুলিশ কর্তৃক রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুরু করা একটি অত্যন্ত বড় ও সমন্বিত বিশেষ অভিযান। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত এই সুপরিকল্পিত অভিযানে প্রথম কয়েক দিনেই ৫০১ জনেরও বেশি অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে এবং আরও ৬,২০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তির নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হচ্ছে।
অভিযানটির মূল বিবরণ ও প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অভিযানের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনাঅনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ: গুজরাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যে লুকিয়ে থাকা অবৈধ অভিবাসী ও অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করা।প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার: গুজরাট পুলিশের সাইবার সেন্টার অফ এক্সিলেন্স এবং টেলিকম অ্যানালিটিক্সের সহায়তায় এমন ভারতীয় মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করা হয়, যেগুলো বাংলাদেশের নম্বরের সাথে যোগাযোগ রাখছিল। এর মাধ্যমে প্রথমে সন্দেহভাজনদের একটি বড় তালিকা তৈরি করা হয়।
২. প্রধান লক্ষ্যবস্তু এবং আটকপ্রধান শিল্প কেন্দ্রগুলো: আহমেদাবাদ, সুরাট, রাজকোট, ভাদোদরা এবং ভারুচের মতো বড় বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক শহরগুলোতে একযোগে ক্রাইম ব্রাঞ্চ, স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং স্থানীয় থানার ৩০টিরও বেশি টিম এই অভিযান চালায়।পেশাগত অবস্থান: ধৃতদের অধিকাংশই কায়িক শ্রম, যেমন—শ্রমিক বা আবর্জনা বাছাইয়ের কাজের সাথে যুক্ত ছিল এবং বেশ কিছু নারী স্পা সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ: রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক এবং জেলা সীমান্তে কঠোর চেকপয়েন্ট বসানোর কারণে রাজ্য ছেড়ে পালানোর চেষ্টাকালে অন্তত ১৮ জনকে আটক করা হয়।
৩.ভুয়ো নথিপত্র: তদন্তে জানা গেছে যে, আটককৃতদের অনেকে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার প্রাথমিক কাগজপত্র ব্যবহার করে ভুয়ো আধার কার্ড ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন।
প্রশাসনের কড়া বার্তা: গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘাভি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো (Deport) হবে। এছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া যারা এই অভিবাসীদের বাসস্থান দিয়েছেন বা কাজে নিয়োগ করেছেন, সেইসব স্থানীয় এজেন্ট ও নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।








