মমতা দিল্লিতে, রাজ্যসভা ছাড়তে পারেন তৃণমূলের দুই সাংসদ: সুখেন্দু শেখর ও কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার জল্পনা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকাকালীনই রাজ্যসভার আসন ছাড়তে পারেন তৃণমূলের দুই সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় ও কোয়েল মল্লিক। দলের ভাঙন ক্রমশ গভীর হচ্ছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ জুন ২০২৬ঃ তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হল। রবিবার দিল্লি পৌঁছেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। আর এই দিনেই রাজ্যসভার দুই সাংসদ ইস্তফা দিতে পারেন বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় এবং অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।

সোমবার সকাল ১১টায় রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময়ও চেয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে একজন গত এপ্রিল মাসেই তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। বিধানসভার পরিষদীয় দলের পর এবার সংসদীয় দলেও ভাঙনের আঁচ। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে তৃণমূলের সংগঠন। গত বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়ক পদ খুইয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের ভাঙন আটকাতে তিনি একের পর এক বৈঠক করলেও পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘জাল সই কাণ্ড’-এর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কমপক্ষে ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক একজোট হন এবং বিধানসভায় বিরোধী দলের তকমা পান। ঋতব্রত হয়েছেন বিরোধী দলনেতা। এই ভাঙনের আঁচ এবার দিল্লিতেও পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই ‘বেসুরো’দের দলে নাম লিখিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভায় তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্য সচেতকের দায়িত্বে ফেরানোর পরই তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতার পদ থেকে সরানোর দাবিতে অন্তত ১৬ জন তৃণমূল সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে দুই সাংসদের ইস্তফার জল্পনা তৃণমূলের জন্য নতুন মাথাব্যথা।