ক্ষোভ উগরে তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, দলনেত্রীকে পাঠালেন ইস্তফাপত্র

তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করলেন মানস ভুঁইয়া। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দলনেত্রীকে ইস্তফাপত্র পাঠালেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক।

Share:

ব্যুরো নিউজ , ১৩ জুন ২০২৬ : ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয়েছে ‘গৃহদাহ’। একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদের বিদ্রোহে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়া। বেশ কিছুদিন ধরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন তিনি।

এমনকি, সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়। এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। ইস্তফাপত্রে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমার শিক্ষা, আমার জীবন, আমার আদর্শ বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না। তাই আমি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করলাম।” সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া আরও জানান যে, তিনি ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর ইস্তফাপত্র দলনেত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যখন দলের মধ্যে অন্যান্য বিধায়ক ও সাংসদদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসছে, তখন মানস ভুঁইয়ার এই পদক্ষেপ তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময় তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে মানস ভুঁইয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু সেই কাজের স্বীকৃতি পাননি বলে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। তৃণমূল ছাড়লেও এখনই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের এই ধারা কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদত্যাগ আসন্ন দিনগুলিতে আরও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।