কালীঘাটে ধুন্ধুমার: অভিষেকের মুখে কুণাল, পাল্টা চড়াও অভিষেকও, পরিস্থিতি সামলালেন মমতা

কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অভিষেক ও কুণাল ঘোষের তীব্র বাদানুবাদ। ‘লেবু কচলে তেতো কোরো না’ মন্তব্য ঘিরে ধুন্ধুমার, পরিস্থিতি সামলালেন মমতা। তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে জল্পনা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৪ জুন ২০২৬ : শনিবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তৃণমূলের অন্দরে ফের উত্তাপের পারদ চড়ল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সূত্রের খবর, একটি বৈঠক চলাকালীন কুণাল অভিষেকের উদ্দেশে সরাসরি বলেন, “যারা এই দুর্দিনে মাটি আঁকড়ে পড়ে আছে, তাদের পদ ইত্যাদি দিয়ে সাহস ও বল দেওয়া দরকার।” অভিষেক তাতে সায় দিলেও কুণাল সঙ্গে সঙ্গে বলেন, “আর পরে পরে কোরো না। লেবু কচলে আর তেতো কোরো না। দলটা তো এভাবেই উঠে গেছে।” এই মন্তব্যের পরই উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। বৈঠক শেষে অভিষেকের সঙ্গে কুণালের ফের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিষেক প্রশ্ন করেন, “তুমি কি আমার সঙ্গে ঝগড়া করতে এসেছিলে? না পোষালে আমাকে তাড়িয়ে দাও।” কুণালও মেজাজ হারান এবং অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “এরাই তো দলকে শেষ করেছে।” সুমিতের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুণাল সংবাদমাধ্যমেও মন্তব্য করেছিলেন, “যে সব ফেরেব্বাজ এই সুমিত রায় ফ্যান ক্লাব তৈরি করেছিল, পুলিশ খুঁজুক তাদের।”

দুজনের গলার স্বর সপ্তমে পৌঁছলে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন। তিনি দু’জনকেই শান্ত হতে বলেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন, এটি কঠিন সময়, মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, সায়নী ঘোষের মতো নেতাদের দল ছাড়ার বা বিদ্রোহী হওয়ার খবর সামনে এসেছে। কালীঘাটের এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল, যা দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।