বিধানসভায় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বিধায়কদের জন্য আলাদা ঘর ও সময়: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর স্বস্তিতে শোভনদেব-কুণাল

বিধানসভায় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বিধায়কদের জন্য আলাদা ঘর ও সময় বরাদ্দ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর স্বস্তিতে শোভনদেব-কুণাল। ঋতব্রতকে কটাক্ষ কুণালের।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৮ জুন ২০২৬ঃ বিধানসভায় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য অবশেষে আলাদা বসার ঘর এবং অধিবেশন চলাকালীন নিজস্ব বক্তব্য পেশের জন্য পৃথক সময় বরাদ্দ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁরা কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁদের যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন। শোভনদেব বলেন, “আমাদের বসার জায়গা, আলাদা ঘর এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।” এদিনের অধিবেশন কক্ষের আসন বিন্যাসও ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কুণাল ঘোষ জানান, প্রবীণতম বিধায়ক হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পূর্ণ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আজ আমরা লক্ষ করলাম, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর আসনে মুখ্যমন্ত্রীই ছিলেন। কিন্তু চিরাচরিতভাবে অধিবেশন কক্ষে বিরোধী দলনেতার জন্য যে আসনটি নির্দিষ্ট থাকে, সেটি বরাদ্দ করা হয়েছিল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য। আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসার জায়গাটি রাখা হয়েছিল কিছুটা দূরে।” নতুন এই ব্যবস্থায় স্বস্তি প্রকাশ করার পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন কুণাল ঘোষ।

ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আজ আমাদের হামাগুড়ি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যেতে হয়নি, কিংবা ঘরের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি। আমরা ওই ‘চাটন ঋত’র (ঋতব্রত) কাছ থেকে কোনও সময় চাইব না। অনৈতিকভাবে যারা দলকে পিছন থেকে ছুরি মারে, তাদের আমরা নেতা বলে কোনও অবস্থাতেই মানি না।”

আলোচনা চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে ডেকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য অবিলম্বে একটি আলাদা বসার ঘরের বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রীকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অধিবেশন চলাকালীন এই বিধায়কদের জন্য যেন আলাদা সময় বরাদ্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে এদিনের আলোচনা যে অত্যন্ত সদর্থক হয়েছে, তা দুই নেতাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন। রাজ্যে সদ্য তৈরি হওয়া নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তবে এই মুহূর্তের অন্যতম জ্বলন্ত সমস্যা ‘হকার উচ্ছেদ’ নিয়ে ইতিমধ্যেই তাঁরা সরব হয়েছেন এবং বিষয়টি খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন।