ব্যুরো নিউজ, ১৮ জুন ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শাসকদলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান কোন্দল নিয়ে এবার সরব হয়েছেন রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বিধানসভায় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য আলাদা ঘর এবং অধিবেশন চলাকালীন নিজস্ব বক্তব্য পেশের জন্য পৃথক সময় বরাদ্দের ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
এই পরিস্থিতিতে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়টিকে মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না, বরং বিরোধী শিবিরের এই চরম কোন্দল ও ছটফটানি তিনি ‘তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ’ করছেন। বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের যৌথ ঘোষণার পরই তাপস রায়ের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণভাবে তাঁদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই, আমরা শুধু গোটা ব্যাপারটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছি।”
তবে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, যদি তারা একটি আলাদা ব্লক বা গোষ্ঠী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আলাদা ঘর কিংবা বিধানসভায় বলার জন্য আলাদা সময়ের দাবি জানায়, তবে সেই বিষয়ে স্পিকার নিশ্চয়ই নিয়ম মেনে চিন্তাভাবনা করবেন। একইসঙ্গে, রাজ্যের শিল্পায়নের বেহাল দশা এবং বিগত সরকারের শিল্প ও জমিনীতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তাপস রায়।
তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে কোনও নির্দিষ্ট শিল্পনীতি বা জমিনীতি ছিল না, যার ফলে শিল্পপতি বা বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে শিল্প গড়তে এসে ফাইল সই করাতে বা অনুমতির জন্য মাসের পর মাস সরকারি দফতরে ঘুরে মরেছেন, এবং স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ হারিয়েছেন। বর্তমান সরকার কোনওভাবেই এই ধরনের টালবাহালা হতে দেবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিগত আটটি বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট (BGBS)-এর ঘোষণা এবং তার বাস্তবায়ন নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
তিনি জানিয়েছেন, কোন ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হয়েছে, কতগুলি অর্ধসমাপ্ত, আর কোনগুলি কেবল খাতায়-কলমেই রয়ে গেছে, তার সম্পূর্ণ খতিয়ান তিনি দফতরের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে বিগত সরকারের শিল্প-বিজ্ঞাপনের ভাঁওতাবাজি খুব শীঘ্রই ফাঁস হবে বলে মনে করা হচ্ছে।








