উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টি, বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ, বৃষ্টিতে ভাসছে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গও

উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। বালাসনের তোড়ে ভাঙল দুধিয়া সেতু, বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ। ধস নেমেছে একাধিক পাহাড়ি রাস্তায়, বিদ্যুৎহীন বহু এলাকা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৯ জুন ২০২৬ঃ উত্তরবঙ্গে ফের দুর্যোগের কালো মেঘ। গত কয়েকদিন ধরে চলা অবিরাম বর্ষণে বিপর্যস্ত পাহাড় ও সমতল। বালাসনের জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে দুধিয়াতে তৈরি অস্থায়ী সেতু। এর ফলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কার্শিয়াং-সহ ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছ, যার জেরে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

বিশেষত, পর্যটন মরসুমে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ পাহাড়ের অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত অক্টোবরেও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত হয়েছিল উত্তরবঙ্গ, ভেঙেছিল দুধিয়া সেতু। বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। ধীরে ধীরে যখন উত্তরবঙ্গ আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল, ঠিক আট মাসের মাথায় ফের একই ধরনের বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা পাহাড়ি জনজীবনকে আরও বিপন্ন করে তুলেছে।

প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর হলেও, বৃষ্টির তীব্রতা এবং ধসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গেও শুরু হয়েছে বৃষ্টি। শুক্রবার সকালেও কলকাতা-সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।\

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দক্ষিণের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার থেকে আরও বাড়বে ঝড়বৃষ্টি। সেই সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের আশঙ্কা বেশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াতে। বৃষ্টিতে ভাসতে পারে হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায়। আগামী কয়েকদিন উত্তর ও দক্ষিণ দুই বঙ্গেই বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে ।