ব্যুরো নিউজ, ২৩ জুন ২০২৬ : এল নিনোর প্রভাবে দুর্বল বর্ষা ভারতের কৃষিক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের ৩১৫টি জেলায় তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১১২টি জেলাকে উচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে সেচের কভারেজ মাত্র ২৫ শতাংশ। বিহার ও উত্তরপ্রদেশ সহ মোট ১২টি রাজ্যে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে।
কৃষি মন্ত্রক জানিয়েছে, খরিফ মরসুমের শুরুতেই বর্ষা তার স্বাভাবিক গতিপথ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানান, এখনও পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ৪৩ শতাংশ। এই পরিস্থিতি কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে কৃষিকাজ মূলত বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল। সরকার সম্ভাব্য খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংবেদনশীল জেলাগুলির জন্য আপৎকালীন কৃষি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং নিরন্তর নজরদারির জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ৭৬টি জেলাকে মাঝারি অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে যেখানে সেচের কভারেজ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এছাড়াও, ১২৮টি জেলা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় রয়েছে, কারণ সেগুলিতে বাঁধ ও খাল সহ উন্নত সেচ ব্যবস্থা রয়েছে। এই জেলাগুলি মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং ওড়িশা জুড়ে বিস্তৃত। কৃষি মন্ত্রকের এল নিনো মনিটরিং সেল এবং ক্রপ ওয়েদার গ্রুপ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সাপ্তাহিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কৃষিমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, সময়মতো জল ব্যবস্থাপনা, শস্য পরিকল্পনা এবং ত্রাণ ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে দুর্বল বর্ষা সত্ত্বেও গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতকে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। রাজ্যগুলিকে পুকুর, জলাধার, চেক ড্যাম এবং বাঁধের মতো জল সংরক্ষণ কাঠামো ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খরিফ মরসুমের জন্য পর্যাপ্ত বীজ ও সারের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও সরকার দাবি করেছে। কৃষকদের কাছে সময়মতো কৃষি উপকরণ এবং ঋণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।








