ব্যুরো নিউজ, ২৪ জুন ২০২৬ঃ এক ম্যাচ আগেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো— তবে প্রশংসার জন্য নয়। কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের ম্যাচে গোল না পাওয়া, সঙ্গে কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করা— সব মিলিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। অন্যদিকে লিওনেল মেসির ধারাবাহিক গোলের পারফরম্যান্স সেই তুলনাকে আরও উসকে দেয়। কিন্তু বড় তারকারা নিজেদের উত্তর সাধারণত কথায় দেন না, দেন পারফরম্যান্সে। উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই উত্তরটাই দিলেন রোনাল্দো। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে শুধু দলকে এগিয়ে দিলেন না, নিজের নামের পাশেও যোগ করলেন একাধিক রেকর্ড।
হিউস্টনে ম্যাচ শুরু হতেই আক্রমণের গতি বাড়ায় পর্তুগাল। শুরুতেই কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা মেলেনি। একবার ব্রুনো ফার্নান্ডেজ়ের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, আবার নুনো মেন্দেসের ক্রস থেকেও অল্পের জন্য গোল মিস করেন রোনাল্দো। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৬ মিনিটে জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো বল ধরে নিখুঁত ফিনিশে জাল খুঁজে নেন রোনাল্দো। গোলকিপারের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই ছিল না। এরপর ১৭ মিনিটে আসে আরও একটি চমক। ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল, আর সকলের নজর ছিল রোনাল্দোর দিকে। সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় দল। রোনাল্দো শট নেবেন ভেবে প্রতিরক্ষা সাজালেও শেষ মুহূর্তে নুনো মেন্দেস বাঁ-পায়ের কার্লিং শটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। পরিকল্পনায় সরাসরি গোল না থাকলেও পরিস্থিতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রোনাল্দোর।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবারও নাম লেখান স্কোরশিটে। ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্ডেজ়ের পাস ধরে বক্সের ভেতর থেকে ঠান্ডা মাথায় দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। এই জোড়া গোল শুধু ম্যাচের ফলই বদলায়নি, ইতিহাসও লিখেছে। রোনাল্দো বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বাধিক গোলদাতা হয়ে ইউসেবিওকে পিছনে ফেলেছেন। পাশাপাশি ছয়টি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করার নজিরও গড়েছেন। সমালোচনা, তুলনা আর প্রশ্নের ভিড়ে রোনাল্দোর উত্তর ছিল একটাই— মাঠে নেমে আবারও নিজেকে প্রমাণ করা।
বিরতির পর একের পর এক আক্রমণ তৈরি করেন তিনি। বারবার বক্সে ঢুকে গোলের সুযোগ বানিয়েছেন, শট নিয়েছেন, সতীর্থদেরও খেলিয়েছেন। সেই চাপের মধ্যেই ৫৯ মিনিটে আত্মঘাতী গোল থেকে ব্যবধান আরও বাড়ে পর্তুগালের। ম্যাচ শেষের দিকে এসে আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় দল। ৮৭ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও গোল করে ব্যবধানকে আরও একতরফা করে দেন।
তবে ম্যাচের শেষভাগে একটা মুহূর্তে উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল। গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে কিছুটা সময় খোঁড়াতে দেখা যায় রোনাল্দোকে। কিন্তু মাঠ ছাড়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি তিনি। শারীরিক অস্বস্তি নিয়েও শেষ বাঁশি পর্যন্ত গোলের খোঁজ চালিয়ে যান। একাধিক শট, ধারাবাহিক আক্রমণ আর সুযোগ তৈরি— সবই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিকটা আর ধরা দিল না। তবুও জোড়া গোল আর আগ্রাসী মানসিকতায় ম্যাচটা যে রোনাল্দোরই হয়ে থাকল, তা নিয়ে খুব বেশি বিতর্ক থাকার কথা নয়।








