ব্যুরো নিউজ, ৭ জুলাই ২০২৬: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ ও হত্যা কাণ্ডে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে এসপি অফিসে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে তারাতলার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর তিনি সরাসরি বারুইপুরে আসেন। সেখানে তিনি নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এই ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর। তাঁর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তাও উপস্থিত ছিলেন। গত রবিবার বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল ও দিবারক সর্দার নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পরপরই উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মুখ্যমন্ত্রী এর আগে রাজ্যবাসীকে শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছিলেন এবং নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, শোকার্ত পরিবারের সমস্ত দাবি পূরণ করবে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে এদিন সকাল থেকেই বারুইপুরকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যায়।
সকালে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় কন্যাহারা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়ক শিউলি সাহা ও প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এলাকায় যান। এনডিএ জোটকে সমর্থনকারী তৃণমূলের দুই সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ঋতব্রত ও সায়নী ঘোষদের দেখামাত্রই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং বিক্ষোভ দেখান। এই উত্তেজনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বারুইপুরে পৌঁছান।







