ব্যুরো নিউজ, ১২ জুলাই ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক কাজে হাত দিয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে স্কুলশিক্ষা দপ্তর নিরন্তর তৎপর। এরই অংশ হিসেবে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন সম্প্রতি বেশ কিছু জরুরি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন, যা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্কুলগুলিতে পড়ুয়া-শিক্ষক অনুপাতের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ‘সারপ্লাস’ বা বাড়তি শিক্ষকদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক স্তর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা মেটানো যাবে বলে দপ্তর মনে করছে। এছাড়াও, রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নীতি সম্পর্কে শিক্ষকদের সচেতন করতে স্কুলশিক্ষা দপ্তর ‘উজ্জীবন চর্চা’ নামে একটি অনলাইন কর্মশালার আয়োজন করেছে, যেখানে শিক্ষকরা নতুন শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং নিজেদের প্রস্তুত করছেন। তবে, সরকারের এই পদক্ষেপগুলি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলিকে পুনরায় চালু করার পরিবর্তে সরকার যেভাবে স্কুলগুলিকে পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে, সেটা সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল বাঁচাতে বিজেপি শিক্ষক সেল মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছে বলেও খবর। বাড়তি শিক্ষকদের অন্যত্র বদলির নির্দেশে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পাকাপাকিভাবে বহু স্কুলে তালা ঝোলাতে পারে। এই সংস্কারগুলি রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলবে।








