বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ: নেপথ্যে হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ?

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ। শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপই কি কারণ? স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আপাতত দায়িত্বে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৪ জুলাই ২০২৬ : দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। ২৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জানা গিয়েছে, গত মে মাসে সাহাবুদ্দিনের লন্ডন সফরকালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর একটি ফোনালাপই এই পদত্যাগের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আপাতত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। গত ৯ মে মহম্মদ সাহাবুদ্দিন লন্ডন সফরে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। এই মধ্যবর্তী সময়েই তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এই ফোনালাপের বিষয়টি গোয়েন্দা সূত্রে প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশাসনের তরফে তাঁকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে অনুমান। তবে, বিরোধী দল বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতার দাবি, পরিস্থিতি আরও জটিল। তাঁর মতে, কেবল ফোনালাপই এই সিদ্ধান্তের একমাত্র কারণ নয়। তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই সেদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে, যা এই আকস্মিক পদত্যাগের নেপথ্যে থাকতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই সাংবিধানিক বিধি মেনেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে রাষ্ট্রপতির কার্যভার সামলাচ্ছেন। এই ঘটনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।