রাজ্যে ১০০ কোটির রক্ত দুর্নীতি: তদন্তে কালীঘাটের ‘প্রভাবশালী’র নাম প্রকাশ্যে

রাজ্যে ১০০ কোটির রক্ত দুর্নীতি! বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ। তদন্তে কালীঘাটের প্রভাবশালী যোগের ইঙ্গিত, ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে FIR।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪ আগস্ট ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গে ১০০ কোটি টাকার রক্ত সংগ্রহ ও প্লাজমা বিক্রি সংক্রান্ত এক বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, যা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কিছু বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত রক্ত সংগ্রহ করে তা থেকে প্লাজমা বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের পাশাপাশি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৭৪টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত ১২টি বর্তমানে তদন্তের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ১১টিতে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মেলায় সেগুলিকে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এই কেলেঙ্কারির আর্থিক পরিমাণ ১০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্লাজমা বিক্রি করে বেশি মুনাফা করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এর জন্য বহু ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং রক্তদাতাদের আকৃষ্ট করতে নানা প্রলোভন দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি পদ্মপুকুরের একটি ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দফতরের অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

দেখা যায়, ৩০০ মিলিলিটার রক্ত রাখার পাউচে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পর্যন্ত রক্ত ভরা হয়েছে। এছাড়াও ছোট আকারের ফ্রিজারের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে রক্ত ও প্লাজমা মজুত রাখা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন ওই ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কালীঘাটের এক প্রভাবশালী নেতা, তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রাক্তন মন্ত্রী এবং এক প্রাক্তন বিধায়কের নামের স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়, তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। অনিয়মের অভিযোগে চিহ্নিত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।