দমদমে ডেঙ্গিতে ১০ বছরের বালকের মৃত্যু, আচমকা কমেছিল প্লেটলেট

দমদমে ডেঙ্গিতে ১০ বছরের বালকের মৃত্যু। আচমকা প্লেটলেট কমে যাওয়ায় অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রাজ্যে বাড়ছে ডেঙ্গি উদ্বেগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ আগস্ট ২০২৬: মদমে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ১০ বছরের এক নাবালকের। মৃত জয়ষ্ণু মজুমদার দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বেদিয়া পাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রোডের বাসিন্দা। সে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত বুধবার সকালে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে জয়ষ্ণু জ্বরে ভুগছিল। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। সেই রিপোর্টেই ডেঙ্গি ধরা পড়ে এবং দেখা যায় তার রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু দুপুর ১টা নাগাদ অ্যাপোলো হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গি এবং অ্যাকিউট রেসপিরেশন নিউমোনিয়াল শক-এর উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবারই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ডেঙ্গি মোকাবিলায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের পরদিনই শহরে ডেঙ্গিতে এক নাবালকের মৃত্যুর খবর সামনে এল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গি সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার মরসুমে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে, তাই সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ির আশেপাশে জল জমতে না দেওয়া, মশার লার্ভা ধ্বংস করা এবং মশারির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। মশার উপদ্রব রুখতে পুরসভা ও স্বাস্থ্য দফতরকে আরও সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই মর্মান্তিক ঘটনা ডেঙ্গি প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল।