ব্যুরো নিউজ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ২৮ সেপ্টেম্বর: দুর্যোগের দাপট কিছুটা কমেছে, আকাশে উঠেছে রোদ। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরে এখনও কাটেনি নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্ক। চতুর্থ দিনেও বঙ্গোপসাগর ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যত জল বাড়ছে, ততই নদীবাঁধের দুর্বল অংশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের। সাম্প্রতিক রিপোর্টেও গোবর্ধনপুরে প্রায় ৬৫০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গ্রামে নোনা জল ঢোকার কথা উঠে এসেছে।
রাতটা কোনওরকমে ফ্লাড সেন্টারে কাটিয়ে সকাল হতেই অনেকেই ফের ঘরের দিকে ফিরছেন। কারও মাথায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী, কারও হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেকে আবার গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিপজ্জনক এলাকা থেকে প্রায় ২২টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও বেশ কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি ছাড়তে চাইছে না। চারদিকে জল আর ভাঙনের আশঙ্কার মধ্যেও শেষ আশ্রয়টুকু আঁকড়ে রয়েছেন তাঁরা।
পরিস্থিতির আরও একটি বড় সমস্যা পানীয় জল। স্থানীয়দের দাবি, যে নলকূপ থেকে এতদিন এলাকার মানুষ জল সংগ্রহ করতেন, নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি মূল রাস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, দূরত্ব প্রায় ৩০০ মিটার।
প্রশাসনের উদ্যোগে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলেও, জল নেওয়ার জায়গাটিও জলমগ্ন বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ফলে জলময় পরিবেশের মধ্যেই গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই নদীবাঁধের স্থায়ী সমাধান ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। ২০২৪ সালেও গোবর্ধনপুরে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল প্রশাসন।
এবারও স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, স্থায়ী নদীবাঁধ এবং নিরাপদ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। একইসঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে।








