পদ্মার ইলিশের অভাব? স্বাদে টেক্কা দিতে প্রস্তুত বাংলার কোন রূপোলি শস্য!

বাংলাদেশের ইলিশের অভাবে চিন্তিত? জানুন ভারতের কোন ইলিশ স্বাদে পদ্মার ইলিশকে টেক্কা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞ ও মৎস্যজীবীদের মতে, বাংলার ইলিশ এখন সেরা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: এই বছর বাংলাদেশে থেকে ইলিশের আমদানি বন্ধ থাকায় বাঙালির পাতে পদ্মার ইলিশের অভাব দেখা দিয়েছে। তবে মৎস্যপ্রেমী বাঙালি কি এবার দেশীয় ইলিশেই স্বাদ খুঁজবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ এখন স্বাদে ও গন্ধে বাংলাদেশের ইলিশের সঙ্গে পাল্লা দিতে প্রস্তুত। ডায়মন্ড হারবার, দিঘা মোহনা, নামখানা এবং বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার ইলিশের মান অত্যন্ত উন্নত বলে জানাচ্ছেন এগজ়িকিউটিভ শেফ সুশান্ত সেনগুপ্ত।

তাঁর মতে, মরশুমের উপর স্বাদ নির্ভর করলেও, বর্তমানে যে ইলিশ বাজারে আসছে, তা কোনও অংশেই বাংলাদেশের ইলিশের চেয়ে কম নয়। বর্ষীয়ান মাছ ব্যবসায়ী প্রফুল্ল হালদারও একই মত পোষণ করেন। তিনি জানান, দিঘা, ডায়মন্ড হারবার ও নামখানা থেকে আসা ইলিশের স্বাদ অতুলনীয়। বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা পড়া এই ইলিশের মান এতটাই ভালো যে, বাংলাদেশের ইলিশের উপর আর ভরসা করতে হয় না।

দিঘা মোহনা ফিশ অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রণব কর এবং শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশ নায়েকের মতে, গত ১০-১৫ বছরে দিঘার ইলিশের সঙ্গে পদ্মার ইলিশের স্বাদের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। যদিও ওড়িশার বুড়িবালামের ইলিশের সুনাম থাকলেও, তা বাংলার বাজারে সেভাবে পৌঁছায় না।

এদিকে হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানান, হাওড়ার পাইকারি বাজারে মূলত গুজরাট ও মিয়ানমারের ইলিশ আসে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ এগুলির চেয়ে ঢের বেশি।

সামগ্রিকভাবে, বাঙালি এখন দেশীয় ইলিশেই তার রসনা তৃপ্ত করতে পারছে।