ব্যুরো নিউজ,৩০সেপ্টেম্বর ২০২৬: মুম্বইয়ের মালাডের কুরার এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ডে-কেয়ার সেন্টার কাম হাসপাতালের তালাবন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হল এক ব্যক্তির পচনধরা মৃতদেহ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় চার বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু বাবার মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি তাঁর ছেলে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির মাধ্যমে বাবাকে ফের জীবিত করা সম্ভব হবে—এই আশাতেই নাকি এতদিন মৃতদেহটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির পরিবার তাঁকে আমেরিকার একটি ‘ক্রায়োনিক্স’ প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। ক্রায়োনিক্সে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় মৃতদেহ সংরক্ষণের ধারণা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সাহায্যে পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা রাখা যায়। তবে এখনও এটি পরীক্ষামূলক ধারণা এবং মৃত মানুষকে এই পদ্ধতিতে সফলভাবে জীবিত করার কোনও প্রমাণিত নজির নেই।
জানা গিয়েছে, আইনি জটিলতা, বিপুল খরচ এবং অন্যান্য লজিস্টিক সমস্যার কারণে মৃতদেহটি বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এরপর প্রায় চার বছর ধরে একটি ফ্রিজে বিভিন্ন রাসায়নিক ও সংরক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে দেহটি রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এতদিন কীভাবে জনবহুল এলাকায় একটি মৃতদেহ এভাবে লুকিয়ে রাখা হল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার মানবিক দিকটিও সামনে এসেছে—বাবাকে হারানোর শোক, মৃত্যুকে মেনে নিতে না পারা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপর এক পরিবারের অটুট বিশ্বাস কীভাবে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্ম দিল, তা নিয়েই এখন চলছে আলোচনা। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় রীতি মেনে মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।








