ব্যুরো নিউজ, ১লা অক্টোবর ২০২৬: বুধবার বই নিয়ে দুই সহপাঠীর বচসা গড়াল ভয়াবহ ঘটনায়। দক্ষিণ কলকাতার সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই এক নবম শ্রেণির ছাত্রের উপর ধারালো বস্তু দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীর বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরের এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয় ১৫ বছরের এক ছাত্র। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্কুল সূত্রে খবর, দুপুর ১২টা ২৯ মিনিট নাগাদ ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতিতেই আচমকা এক ছাত্র তার সহপাঠীর উপর হামলা চালায়। হামলার পরেই জখম ছাত্রের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। শিক্ষকরা দ্রুত তাকে স্কুলের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে নার্সরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মীরা তাকে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে আহত ছাত্রের পরিবারের সদস্যরাও হাসপাতালে পৌঁছন।
হাসপাতালে পরীক্ষায় দেখা যায়, ছাত্রটির গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে, যা মুখের ভিতর পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং ভিতরের পেশিতেও আঘাত লাগে। বাম হাতেও একাধিক ক্ষত ছিল। বিশেষ করে বাম হাতের তর্জনীর এক্সটেনসর টেন্ডন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অন্যান্য আঙুলেও কাটা দাগ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাত্রটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা হয়। এরপর প্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন ডিপাঞ্জন দে-র নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা গলার গভীর ক্ষত এবং হাতের বিভিন্ন আঘাতের অস্ত্রোপচার করে মেরামত করেন।
ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্কুল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একটি বই নিয়ে দুই ছাত্রের মধ্যে বিবাদের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এরপরই বচসা হিংসাত্মক ঘটনায় রূপ নেয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ছাত্রকে সঙ্গে সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। স্কুলের সঙ্গে যুক্ত মনোবিদরা তার কাউন্সেলিং করেন। পরে তার বাবা তাকে বাড়ি নিয়ে যান।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সাউথ পয়েন্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনায় স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং অন্যান্য পড়ুয়ার মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।








