ব্যুরো নিউজ, ১ অক্টোবর ২০২৬: এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদক জয়ের সূচনা হলো নৌচালনার হাত ধরে। পুরুষদের স্কিফ ইভেন্টে রূপো জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন কেরালার মনু ফ্রান্সিস এবং প্রিন্স নোবেল কুরিসিঙ্কাল। ছোটবেলার বন্ধু এই দুই ক্রীড়াবিদ তাঁদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভারতের পদক তালিকায় প্রথম সংযোজন ঘটালেন, যা দেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত।
কেরালার চেরাই সৈকতে একটি সাধারণ নৌকা দিয়ে তাঁদের নৌচালনার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় ন্যাশনাল সেলিং স্কুলের কোচ পি. মধু তাঁদের প্রতিভা লক্ষ্য করেন এবং উৎসাহিত করেন। এরপর ভোপালের ন্যাশনাল সেলিং স্কুল এবং কেরালার মুজিরিস ইয়টিং ক্লাবে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নবনীত মিত্তাল ও সুরেশ পিল্লাইয়ের তত্ত্বাবধানে নিবিড় প্রশিক্ষণ নেন।
পড়াশোনা শেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও নৌচালনার প্রতি তাঁদের নিষ্ঠা অটুট ছিল। মুম্বাইয়ের আর্মি ইয়টিং নোডে কোচ সন্দীপ জৈনের তত্ত্বাবধানে তাঁরা কঠোর অনুশীলন করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করেন।
২০১০ সাল থেকে তাঁরা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন এবং স্কিফ বিভাগে এক ধারাবাহিক জুটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে আবু ধাবি ও থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়ান সেলিং চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁরা ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
এই এশিয়ান গেমস ছিল তাঁদের প্রথম অংশগ্রহণ, এবং তাঁরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে রূপো পদক ছিনিয়ে আনলেন, যা ভারতের নৌচালনার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। নয়টি রেসের মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মনু ও নোবেল মোট ২৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। যদিও চিনের ওয়েন জাইডিং এবং লিউ তিয়ান ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সোনা জেতেন।
শেষ রেসে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে মনু ফ্রান্সিস ও প্রিন্স নোবেল ভারতের জন্য এই মূল্যবান রূপো পদক নিশ্চিত করেন। তাঁদের এই জয় দেশের ক্রীড়ামহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।








