ব্যুরো নিউজ, ৩ অক্টোবর ২০২৬: সৌদি আরবের দাহরানের কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে ইয়েমেনের হাউদি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তানের তিনটি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশিত হলেও, ইসলামাবাদ অবশ্য এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, পাকিস্তান সরকার এই ঘটনায় সত্যি গোপন করার চেষ্টা করছে, যা তাদের জন্য একটি বড় অস্বস্তির কারণ।
বর্তমানে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হাউদি বাহিনী সৌদি আরবের সঙ্গে এক ভয়ংকর সংঘাতে লিপ্ত। এই সংঘাতের অংশ হিসেবেই চলতি সপ্তাহে দাহরানের ওই বিমানঘাঁটিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। এর ফলে সেখানে মোতায়েন থাকা পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি, যা ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত, তার আওতায় পাকিস্তান সৌদিতে সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েন করেছে। এই চুক্তিতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অঙ্গীকারবদ্ধ।
যদিও এই ঘটনার পর থেকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি আসেনি, যা জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে এটি পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক এবং সামরিক ধাক্কা। একদিকে যেমন তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তেমনই সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা শুরু হবে।
ইসলামাবাদ অবশ্য দ্রুত এই খবরকে ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং এটিকে শত্রুপক্ষের অপপ্রচার বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। এই হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আগামী দিনে আরও তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার ৩রা অক্টোবরের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় এনে দিতে পারে।








