পাকিস্তানি মধুচক্রের ফাঁদে বাঙালি নৌসেনা, তথ্য পাচারের অভিযোগে তামিলনাড়ুতে গ্রেপ্তার

পাকিস্তানি মধুচক্রের ফাঁদে পা দিয়ে দেশের স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার হলেন এক বাঙালি নৌসেনা কর্মী। চাঞ্চল্য দেশজুড়ে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪ অক্টোবর ২০২৬: ভারতের জাতীয় সুরক্ষায় ফের এক বড় আঘাত হানল পাকিস্তান। পাকিস্তানি মহিলা গুপ্তচরদের মধুচক্র ফাঁদে পা দিয়ে স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার হলেন এক বাঙালি নৌসেনা কর্মী। অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআই) শনিবার গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নৌসেনা কর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাসখানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পাকিস্তানি মহিলার সঙ্গে প্রদীপের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই মহিলা প্রদীপের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং তাঁকে যৌনতার ফাঁদে ফেলে। প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ওই মহিলাকে পাচার করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০১৪ সালে প্রদীপ ভারতীয় নৌসেনার সোলজার পদে যোগ দেন। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে কোয়েম্বত্তূরের রেড ফিল্ডসে আইএনএস অগ্রণী-তে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, প্রদীপের কাছ থেকে আর কী কী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার হয়েছে এবং এই চক্রে আরও কারা জড়িত।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রদীপকে আর্থিক প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল। তাঁর মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই ঘটনার গভীরে প্রবেশ করে মূল চক্রটিকে উন্মোচন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

দেশের সামরিক বাহিনীর একজন সদস্যের এমন কাণ্ডে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।