ব্যুরো নিউজ, ৫ অক্টোবর ২০২৬: ফ্রান্সে পড়ুয়া বিক্ষোভ ক্রমশই তীব্র আকার ধারণ করছে। জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সংকটের মতো মৌলিক সমস্যাগুলির প্রতিবাদে দেশজুড়ে শয়ে শয়ে স্কুল বন্ধ রয়েছে। দেখতে দেখতে এই আন্দোলন দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিল, যা সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আগামী মঙ্গলবার দেশজুড়ে আরও বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তার আগে সোমবারই ফ্রান্সের রাজপথে প্রায় ৩ লক্ষ পড়ুয়াকে নেমে আসতে দেখা গিয়েছে, যা আন্দোলনের ব্যাপকতা স্পষ্ট করে।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে রবিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশের মোট ৩,৭০০টি হাই স্কুলের মধ্যে সোমবার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। তবে তিনি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার কথা বলেছেন। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি হাই স্কুলে শিক্ষক-সংকটের জেরে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষক সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই, শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নের দাবিও এতে যুক্ত হয়েছে। গত সোমবার থেকে ধরলে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রায় ৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলির উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এছাড়াও, বহু পড়ুয়া ও শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও, পড়ুয়াদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিক্ষোভ ফরাসি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








