শান্তিপুরে আইআইএইচটি পুনর্মিলন ঘিরে বিতর্ক: সুকান্ত ভবনে উদ্দাম উল্লাস, ভাঙচুর, কড়া পদক্ষেপ ব্লক প্রশাসনের

শান্তিপুরে আইআইএইচটি-র পুনর্মিলন উৎসবে উদ্দাম উল্লাস, মদ্যপান ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ। ব্লক প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ, তদন্ত শুরু।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ অক্টোবর ২০২৬: ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের অধীনস্থ প্রখ্যাত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হ্যান্ডলুম টেকনোলজির (IIHT) প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন অনুষ্ঠান ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে নদীয়ার শান্তিপুরে। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের নামে শান্তিপুরের সুকান্ত ভবনে উদ্দাম উল্লাস, মদ্যপান এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছেন প্রাক্তনীরা। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র প্রশ্ন উঠেছে একটি সর্বভারতীয় স্তরের মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের আচরণ নিয়ে। রবিবার এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন উৎসবটি আয়োজিত হয়েছিল।

হ্যান্ডলুম শিল্পের সাথে যুক্ত এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত নবীন ও প্রবীণ ছাত্র-ছাত্রীরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্লকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাতানুকূল সুকান্ত ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ সকালে কর্তৃপক্ষের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। অভিযোগ, গতকাল রাতে ওই ভবনে তীব্র শব্দযন্ত্রের সাহায্যে উন্মত্ত অবস্থায় অশালীন নাচের আসর বসেছিল। সকালে ভবনের যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় ভাঙা বোতল এবং পরিত্যক্ত খাবারের টুকরো, যা থেকে মদ্যপানের আসর বসার জোরালো অনুমান করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু চেয়ারও ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েছে সেই চাঞ্চল্যকর ছবি, যেখানে চেয়ারের উপর উঠে উন্মত্তভাবে নাচানাচি করতে দেখা গিয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। জানা গিয়েছে, ভবন ভাড়া নেওয়ার সময় সরকারি নিয়মাবলীর বেশিরভাগই মানা হয়নি। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই তৎপর হয় শান্তিপুর ব্লক প্রশাসন। অভিযোগ পাওয়ার পর শান্তিপুরের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) সব্যসাচী রায় ইতিমধ্যেই আইআইএইচটি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। বিডিও জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং নিয়মভঙ্গের এই ঘটনাটি প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরেও আনা হবে। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা প্রসঙ্গে আইআইএইচটি কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কেউ মুখ খোলেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রাক্তনীদের সংগঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তা সত্ত্বেও সুকান্ত ভবনের যা যা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে ওই সংগঠনের সাথে কথা বলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে।