‘লাডলী বহনা’ প্রকল্প এখন বোঝা? স্বীকারোক্তি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর, বললেন ‘আগে বুঝতে পারিনি’

‘লাডলী বহনা’ প্রকল্পকে আর্থিক বোঝা বললেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। আগে বুঝতে পারেননি বলে স্বীকারোক্তি। ৬ লক্ষেরও বেশি মহিলা বাদ, নতুন নাম নথিভুক্তকরণ বন্ধ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ অক্টোবর ২০২৬: মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লাডলী বহনা যোজনা’ এখন বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্বীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।

তাঁর কথায়, এই প্রকল্পের বিপুল ব্যয়ভার সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। ভোপালের রবীন্দ্রভবনে একটি অনুষ্ঠানে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানান, “লাডলী বহনা যোজনা কী পরিমাণ ব্যয়বহুল প্রকল্পে পরিণত হয়েছে আপনাদের কোনও ধারণাই নেই। মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এত ভারী আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, তা আগে বুঝতে পারিনি আমি।”

বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়, যার জন্য বছরে ২২৬৮০ কোটি টাকা খরচ হয়। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ঘোষণার পর দেশের প্রায় সব রাজ্যেই মহিলাভাতা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রদেশে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন শিবরাজ সিংহ চৌহান সরকার ‘লাডলী বহনা যোজনা’ ঘোষণা করে। তবে, এই প্রকল্প ঘিরে বিতর্কও দানা বেঁধেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ২৫ হাজার মহিলাকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে নাম নথিভুক্তকরণও আপাতত বন্ধ রয়েছে। বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক মহেশ পারমার যোগ্য মহিলাদের নাম নথিভুক্তকরণ বন্ধ রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কবে থেকে নতুন করে নাম তোলা যাবে, সে বিষয়ে সরকার এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।