নানা পাটেকরের বর্ণময় ব্যক্তিগত জীবন: সন্তান হারানোর শোক থেকে স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব ও মনীষার সঙ্গে সম্পর্ক

অভিনেতা নানা পাটেকরের বর্ণময় ব্যক্তিগত জীবন। স্ত্রী নীলকান্তির থেকে দূরত্ব, সন্তান হারানোর শোক এবং মনীষা কৈরালার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অজানা অধ্যায়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ অক্টোবর ২০২৬: নানা পাটেকরের প্রয়াণে বৃহস্পতিবার শোকস্তব্ধ গোটা ভারতবর্ষ। কিন্তু তাঁর বর্ণময় অভিনয় জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনও ছিল নাটকীয়তায় ভরা।

১৯৭৮ সালে নীলকান্তিকে বিয়ে করেন নানা। অভিনয় জগতে আসার আগে নীলকান্তি ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন এবং থিয়েটারে কাজ করার সময়েই নানার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোয় নীলকান্তি ছিলেন নানার প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গী। তবে তাঁদের প্রথম পুত্রসন্তান দুর্বাসা মাত্র আড়াই বছর বয়সে মারা যায়, যা অভিনেতার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই নানার পারিবারিক জীবনে ঝড় ওঠে।

দীর্ঘ বছর তিনি স্ত্রী নীলকান্তির থেকে আলাদা থাকতেন, যদিও তাঁদের আইনত বিচ্ছেদ হয়নি। নানা পাটেকর মাত্র ২৮ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন, যিনি ছিলেন তাঁর নাটকের প্রতি প্রেমের প্রথম অনুপ্রেরণা। জীবনের এই কঠিন অধ্যায়গুলি তাঁর ব্যক্তিত্বে গভীর ছাপ ফেলেছিল।

কেরিয়ারের সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে নানা পাটেকরের নাম জড়িয়েছিল বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে। এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন মনীষা কৈরালা এবং আয়েশা জুলকার।

‘অগ্নি সাক্ষী’ এবং ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সময়ে মনীষা কৈরালার সঙ্গে তাঁর প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। শোনা যায়, নানা প্রায় প্রতিদিনই শুটিংয়ের পর মনীষার বাড়িতে যেতেন। তবে এই সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। মনীষার পোশাক ও পর্দায় তাঁর অভিনীত চরিত্র নিয়ে নানার অধিকারবোধ এবং আয়েশা জুলকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন মনীষার কানে আসায় তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে।

জীবনের নানা ওঠাপড়া, প্রেম, বিয়ে থেকে বিচ্ছেদ—কোনও পর্যায় নিয়েই রাখঢাক করেননি নানা পাটেকর। সন্তান হারানোর শোক, স্ত্রীর থেকে দূরত্ব এবং একাধিক প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। তাঁর প্রয়াণে তাঁর বর্ণময় জীবন আরও একবার স্মরণীয় হয়ে উঠল।