পানিহাটি পুরসভায় বকেয়া বেতনের দাবিতে ধুন্ধুমার, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি অস্থায়ী কর্মীদের

পানিহাটি পুরসভায় বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। বিজেপির প্রশ্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ অক্টোবর ২০২৬: পানিহাটি পুরসভায় বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল। পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন এবং ভাতা না মেলায় এদিন পুরসভার মূল গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও পুরসভা কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রাপ্য মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে তাঁদের পরিবারগুলি চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। এই বিক্ষোভের জেরে পুরসভায় ঢুকতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন উত্তর শহরতলি জেলা বিজেপির সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় এবং বিজেপি নেতা জয় সাহা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিক্ষোভ তুলতে গেলে তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের বেতন ও ভাতা বকেয়া রয়েছে, যার ফলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত এই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপির তরফে অস্থায়ী কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চণ্ডীচরণ রায় দাবি করেন, কোভিড পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে এই কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তৃণমূলের কাউন্সিলররা নিজেদের ইচ্ছামতো তাঁদের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। বিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, অনেক অস্থায়ী কর্মী পুরসভার কাজের পরিবর্তে কাউন্সিলরদের ব্যক্তিগত কাজ যেমন রান্না, বাজার করা বা গাড়ি চালানোর মতো কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “অনেকেই পুরসভার কাজের বদলে কাউন্সিলরদের বাড়িতে রান্না, বাজার বা গাড়ি চালানোর মতো ব্যক্তিগত কাজ করতেন।” যদিও বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার সকলেরই আছে, তবে পুরসভার গেট আটকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই ঘটনার জেরে পুরসভা চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা বজায় ছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।