মানসিক চাপেই কি দেরিতে হয় ঋতুস্রাব? হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব

মানসিক চাপ কি ঋতুস্রাব দেরির কারণ? হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে কীভাবে ঋতুচক্র প্রভাবিত হয়? বিশেষজ্ঞের মতামত ও কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি, বিস্তারিত জানুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১০ অক্টোবর ২০২৬: নিয়মিত ঋতুচক্র নারীদেহের সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তবে অনেক সময়ই ঋতুস্রাব ৭-১০ দিন বা তারও বেশি পিছিয়ে যেতে পারে। এর নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকলেও, মানসিক চাপ বা স্ট্রেস প্রায়শই এড়িয়ে যাওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঋতুচক্রের উপর। চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ বাড়লে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশের স্বাভাবিক কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটে। হাইপোথ্যালামাস হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়া চালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পিটুইটারি গ্রন্থিকে সংকেত পাঠায়, যা ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোনগুলিই ঋতুচক্রের মূল নিয়ন্ত্রক। অতিরিক্ত মানসিক চাপে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর প্রভাবে হাইপোথ্যালামাসের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, ফলে ডিম্বস্ফোটন বা ওভিউলেশন পিছিয়ে যায়। এর ফলস্বরূপ ঋতুস্রাবও দেরিতে হয়।

তবে একবার পিরিয়ড দেরিতে হলেই যে প্রতি মাসেই এমন হবে, তা নয়। মানসিক চাপ কমলে ঋতুচক্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। তাই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। যদি বার বার ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মানসিক চাপ ছাড়াও পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS), স্থূলতা বা গর্ভাবস্থার মতো একাধিক কারণেও পিরিয়ড দেরিতে হতে পারে।