ব্যুরো নিউজ, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: আরব সাগরের প্রাকৃতিক ঢাল সত্ত্বেও মুম্বইয়ের বায়ুদূষণ এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অনেক সময় ‘গ্যাস চেম্বার’ দিল্লিকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে।
সাধারণত সমুদ্রের বাতাস উত্তর ভারতের বিষাক্ত ধোঁয়াশা থেকে মায়ানগরীকে রক্ষা করে, কিন্তু ২০২৬ সালে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মুম্বইয়ের বাতাসের গুণগত মান (AQI) দিল্লিকে ছাড়িয়ে গেল। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মুম্বইয়ের AQI প্রায় ৪০০ ছুঁয়েছিল এবং গত সপ্তাহেও তা ভারতের দূষিত শহরগুলির মধ্যে শীর্ষে ছিল।
এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণকাজের ধুলো এবং যানবাহনের ধোঁয়া দূষণের প্রধান কারণ হলেও, এবার পরিস্থিতি আরও জটিল। মন্থর বাতাস দূষিত কণাগুলিকে জমতে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এছাড়াও, আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় আবর্জনা পোড়ানো এবং উৎসবের মরসুমে আতশবাজি ফাটানোর ফলে বাতাসে বিষাক্ত কণার পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সমস্ত কারণ একত্রিত হয়ে মুম্বইয়ের বায়ুকে বিষিয়ে তুলছে।
আবহাওয়াবিদরা ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবের কথা উল্লেখ করে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বম্বে হাইকোর্টও মুম্বইয়ের ক্রমবর্ধমান দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রশ্ন তুলেছে, কেন সমুদ্রের ধারে থেকেও এই শহরের দূষণ দিল্লির চেয়েও বেশি হচ্ছে।
মুম্বইয়ের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজছে প্রশাসন।








