সপ্তমীর বিপর্যয়ের পর বিনা বরণেই চোরবাগানের দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন, দুঃখিত বাসিন্দারা

সপ্তমীর বিপর্যয়ের পর বিনা বরণেই নিরঞ্জনের পথে চোরবাগানের দুর্গা প্রতিমা। সিঁদুর খেলাও হল না। বিষণ্ণ মনে মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন বাসিন্দারা। বিস্তারিত পড়ুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীনের দুর্গা প্রতিমা অবশেষে নিরঞ্জনের পথে। তবে এবারের বিসর্জন ঘিরে ছিল এক অন্যরকম বিষাদ ও অনিশ্চয়তা।

সপ্তমীর রাতের মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর এই মণ্ডপের প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। অবশেষে সিটের প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী প্রতিমা নিরঞ্জনে আপত্তি নেই জানানোর পরই শনিবার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সাধারণত বিজয়া দশমীর পর প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে বরণ ও সিঁদুর খেলার প্রথা প্রচলিত থাকলেও, চোরবাগানের ক্ষেত্রে এবার তা হয়নি। এক বিষণ্ণ আবহে শনিবার দুপুরে অভিশপ্ত প্যান্ডেল থেকে প্রতিমা বের করার জন্য ৪০ জন কুলিকে আনা হয়। মণ্ডপের মূল অংশ অক্ষত রেখেই দুপুর ২টো নাগাদ প্রতিমা বের করা হয়। এরপর কিছুক্ষণ সেন্ট্রাল এভিনিউয়ে রাখা হয় দুর্গা প্রতিমা। সেখানে ভিড় জমান এলাকার অসংখ্য বাসিন্দা, যাঁদের চোখেমুখে ছিল শোক ও আক্ষেপ।

এলাকাবাসীরা জানান, সপ্তমীর সন্ধ্যায় হঠাৎ বৃষ্টিতে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেই ঘটনার রেশ ধরেই এবার বরণ ও সিঁদুর খেলা থেকে বঞ্চিত হলেন তাঁরা। পুজোয় কোনও দোষ ত্রুটি থেকে গেল কিনা, তা নিয়েও তাঁরা চিন্তিত। তাই সবকিছুর জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন চোরবাগানের বাসিন্দারা, তাঁদের কথায়, “মা ক্ষমা করে দিও। পুজোয় কোনও ভুল হয়ে থাকলে তুমি আমাদের ক্ষমা করো।” এই বিষণ্ণ পরিবেশে চোখের জলেই চোরবাগান সার্বজনীনের উমা বিদায় নিলেন।