ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: একের পর এক বিমান বাতিল, উড়ানে দীর্ঘ বিলম্ব, যাত্রীদের টাকা ফেরত পেতে হয়রানি—সব মিলিয়ে গভীর সঙ্কটের মুখে দেশের বাজেট বিমান সংস্থা SpiceJet। একসময় স্বল্প খরচে বিমান পরিষেবার জন্য পরিচিত এই সংস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ক্রমশ ছোট হচ্ছে বিমানের বহর, কমছে বাজারে অংশীদারিত্ব, আর পরিষেবা নিয়ে বাড়ছে যাত্রীদের অভিযোগ।
সূত্রানুযায়ী, বর্তমানে SpiceJet-এর কার্যকর বিমানসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩টিতে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণের বাজারে সংস্থাটির অংশীদারিত্ব নেমে এসেছে মাত্র ০.৬ শতাংশে।
পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক, তার ইঙ্গিত মিলেছে DGCA-র সেপ্টেম্বর মাসের পরিসংখ্যানে। ওই মাসে SpiceJet-এর নির্ধারিত উড়ানের ২০ শতাংশেরও বেশি বাতিল হয়েছে। অথচ গোটা বিমান পরিবহণ শিল্পে উড়ান বাতিলের গড় হার ছিল মাত্র ১.১৫ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, সেপ্টেম্বর মাসে সংস্থাটির সময়ানুবর্তিতা ছিল মাত্র ১৬.৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৮৩.৪ শতাংশ উড়ান নির্ধারিত সময়ের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।
পরিসংখ্যান বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩৬ হাজার যাত্রী দু’ঘণ্টার বেশি বিলম্বের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, উড়ান বাতিলের কারণে সমস্যায় পড়েছেন প্রায় ২১,৭০০ জন। ওই মাসে যাত্রীসংখ্যাও জানুয়ারির তুলনায় ৮৭ শতাংশ কমে প্রায় ৭৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
শুধু উড়ান বাতিল নয়, টাকা ফেরত পাওয়া এবং বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা নিয়েও অভিযোগ উঠছে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, শেষ মুহূর্তে উড়ান বাতিলের খবর দেওয়া হচ্ছে, অথচ বিকল্প পরিষেবা বা দ্রুত রিফান্ড মিলছে না।
এই পরিস্থিতিতে SpiceJet-এর আর্থিক ও পরিচালনগত অবস্থা খতিয়ে দেখছে DGCA। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পর্যাপ্ত বিমান ও আর্থিক সংস্থান ছাড়া কীভাবে পরিষেবা স্বাভাবিক করবে সংস্থাটি?










