মার্কিন নির্বাচনে ভোট দিলেন পোপ লিও চতুর্দশ! ইতিহাসে প্রথমবার কোনও দায়িত্বে থাকা পোপের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়ে নিজেকে আমেরিকান হিসেবে গর্বিত জানালেন পোপ চতুর্দশ লিও। এটিই প্রথমবার কোনও পোপের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভোটদান।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: ভ্যাটিকানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদে থেকেও নিজের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পিছপা হলেন না পোপ লিও চতুর্দশ (Pope Leo XIV)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন তিনি। দায়িত্বে থাকা কোনও পোপের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ঘটনা সম্ভবত ইতিহাসে এই প্রথম। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার উদ্দেশে যাত্রার সময় বিমানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

সূত্রানুযায়ী, পোপ লিও বলেছেন, “আমি একজন আমেরিকান হিসেবে গর্বিত এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আনন্দিত।” শিকাগোয় জন্মগ্রহণকারী পোপের বাপ্তিস্মের সময়কার নাম রবার্ট প্রিভোস্ট (Robert Prevost)। তিনি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের উইল কাউন্টিতে নিজের ভোটের জন্য ডাকযোগে ব্যালট চেয়েছিলেন। গত ৩০ অক্টোবর ভ্যাটিকানও নিশ্চিত করেছিল যে, পোপ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাননি তিনি। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সাফল্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, ‘কোনও মন্তব্য নেই’। উল্লেখ্য, পোপ সাধারণত সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। যদিও অভিবাসন নীতি এবং ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।

এদিকে, ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পোপের সামনে এখন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরে রয়েছেন তিনি। প্রায় ১২ দিনের এই সফরে ১৪টি বিমানযাত্রা, ৩৬টি ভাষণ এবং প্রায় ৫০টি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই সফর শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন সপ্তাহ পর। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর আর অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। পেরুতে প্রায় দুই দশক মিশনারি ও বিশপ হিসেবে কাজ করার কারণে এই সফর তাঁর কাছে বিশেষ আবেগেরও।

পোপের এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় নেতৃত্ব, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্পর্কিত খবর