ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় অবস্থিত হংসেশ্বরী মন্দির শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি তন্ত্র ও যোগ সাধনার এক জীবন্ত নিদর্শন। প্রায় ২১০ বছর আগে রাজা নৃসিংহদেব রায় এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
তন্ত্র সাধনা শিখে কাশীবাসী রাজা বিলেত যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে এই মন্দির গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ৭০ ফুট উঁচু এই ছয়তলা মন্দিরের স্থাপত্য বাংলার অন্য মন্দিরগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর ১৩টি চূড়া তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী মানুষের শরীরের ষটচক্রের আদলে গড়া। মন্দিরের গর্ভগৃহ মূলাধার চক্রের প্রতীক, যেখানে অষ্টদল পদ্মের উপর শায়িত শিব এবং তাঁর নাভি থেকে ওঠা রক্তলাল পদ্মে অধিষ্ঠান করছেন মা হংসেশ্বরী। তিনি এখানে কুলকুণ্ডলিনী রূপে বিরাজমান। মন্দিরের পাঁচটি সিঁড়ি মানবদেহের পাঁচটি নাড়ির প্রতীক। গর্ভগৃহ থেকে চূড়া পর্যন্ত অসংখ্য গোপন সিঁড়ি ও সংযোগপথ রয়েছে, যা এক জটিল গোলকধাঁধার সৃষ্টি করেছে। গুরুর নির্দেশ ছাড়া এই রহস্যময় পথে মোক্ষের সন্ধান পাওয়া কঠিন বলে মনে করা হয়।
রাজা নৃসিংহদেব মন্দিরটি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর পর রানি শঙ্করী প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ শেষ করেন এবং ১৮১৪ সালে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তন্ত্রমতে, মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে জড়িত ‘হং’ ও ‘সঃ’ ধ্বনি থেকে এই দেবীর নামকরণ হয়েছে। সারা বছর মা এখানে শান্ত রূপে পূজিত হলেও, দীপান্বিতা অমাবস্যায় দেবীকে রাজবেশে সাজানো হয়, যা দেখতে অগণিত ভক্তের সমাগম হয়।










