ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: মালদা শহরের রাস্তায় এবারও দশমাথা মহাকালীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। চতুর্দশীর সকালে মৃৎশিল্পীর ঘর থেকে দেবীকে মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই উপলক্ষে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে এক বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও মহাকালীর এই বিশেষ শোভাযাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজোর প্রধান প্রসাদ হিসেবে থাকে শোল মাছের টক। ঐতিহ্য মেনে দিনের আলোতেই এই দশমাথা কালীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়, যা মহাকালী নামে পরিচিত। দেবীর আরাধনার সঙ্গে পাঠা উৎসর্গ এবং শোল মাছের টক বিশেষ প্রসাদ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। এই পুজোর ইতিহাস বেশ পুরনো।
১৯৩০ সালের দিকে ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মালদার কিছু মানুষ বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় শক্তি ও সাহস অর্জনের জন্য তারা একটি ব্যায়ামাগার তৈরি করেন এবং দশমাথা মহাকালীর আরাধনা শুরু করেন। সেই পুজো আজও চলে আসছে, যদিও পুজোর স্থান পুড়াটুলি থেকে পরিবর্তিত হয়ে এখন ইংরেজবাজার শহরের গঙ্গাবাগে হয়েছে। জেলাজুড়ে এই পুজো ‘দশ মাথা কালী’ নামেই পরিচিত। বিশেষত চতুর্দশীর দিন দেবীর আরাধনা ধুমধাম করে করা হয়। কালী মূর্তিরও এখানে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। দেবীর দশটি মাথা, দশটি হাত এবং দশটি পা। এই মূর্তিতে শিবের কোনো স্থান নেই। দেবীর পায়ের নিচে রয়েছে অসুরের কাটা মুণ্ডু এবং প্রতি হাতে বিভিন্ন শক্তি রূপে সজ্জিত।










