নিউজ ব্যুরো, ২২ জুন ২০২৬: রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল ২০২৬ সালের বাজেট। সোমবার বিধানসভায় পেশ হওয়া বাজেটে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি এবং বীরভূমের সাঁইথিয়ায় ‘ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ গড়ার ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে দুর্গাপুরে একটি ‘সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট’ তৈরির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন ফ্রেমওয়ার্ক’ চালু করা হচ্ছে, যেখানে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশবান্ধব শক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে জোর দিতে একটি নতুন ‘ইনসেন্টিভ পলিসি’র জন্য ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। হাওড়া-হুগলির পাটশিল্প এবং শিলিগুড়ি-দার্জিলিংয়ের চা ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের পুনরুজ্জীবনের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চা বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা এবং শিলিগুড়িতে আধুনিক ‘কমন টি প্রসেসিং সেন্টার’ গড়ার কথাও জানানো হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের তাঁত এবং কুশমন্ডির কার্পেট শিল্পের উন্নতির জন্য একটি ‘টেক্সটাইল পার্ক’ তৈরি হবে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িকে একটি বড় লজিস্টিক ও ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন স্টার্ট-আপ নীতি ঘোষণা করা হবে, যার জন্য ৪০ কোটি টাকার ‘ইনকিউবেশন ফান্ড’ এবং ৬০ কোটি টাকার ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড’ থাকবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘উদ্যম ক্রেডিট কার্ড’ চালু হবে, যার মাধ্যমে ২ লাখ যুবককে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। বাজেটে কৃত্রিম মেধা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের কেন্দ্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলার প্রস্তাবও রয়েছে। কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার ভাবনাও প্রকাশ করা হয়েছে, যা পূর্ব ভারতের বণিক মহলের জন্য ইতিবাচক হবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।








