ব্যুরো নিউজ, ৩ অক্টোবর ২০২৬: ভারতীয় পাইলটকে লক্ষ্য করে ৯/১১ ধাঁচের হামলার ছক কষা ওমানি সন্ত্রাসীর পরিচয় অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে।
হামাম আল-হাম্মামি নামের ওই সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে কুখ্যাত আল-কায়দা সন্ত্রাসীদের ছবি দেখা গেছে। এই ঘটনাটি একটি বড়সড় বিমান হামলার চেষ্টা ছিল, যা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্চরের অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতায় ব্যর্থ হয়েছে।
হামাম আল-হাম্মামি ওমানের নাগরিক। তার সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ থেকে স্পষ্ট যে সে কট্টরপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকতে পারে।
সিএনএন-এর সূত্রানুযায়ী, আল-হাম্মামি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই চাকরি ছাড়েন। উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী মতাদর্শের কারণে সৃষ্ট উদ্বেগের জেরে তাকে ফ্লাইট প্রশিক্ষণের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে এয়ারলাইনের অন্য কোনো পদে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তিনি ২০২৫ সালের জুন মাসে রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেখান থেকে চলে আসেন।
সিএনএন-এর উদ্ধৃত একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার তথ্যমতে, এরপর তিনি প্রায় আট মাস ‘ফ্লাইদুবাই’-তে কাজ করেছিলেন। বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি পায় ২০২৩ সালে।
আল-হাম্মামির জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরাতে; তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয় নাগরিক। তিনি বেশ কয়েক বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অতিবাহিত করেছিলেন।
তাকে নিয়ে আগে যেসব উদ্বেগের কথা জানা গিয়েছিল, তা এখন এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ওমান এয়ারে থাকাকালীন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে বিভিন্ন এয়ারলাইনের মধ্যে চাকরি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
৯/১১ হামলার আদলে একটি বিমান ছিনতাই বা ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে, ঠিক কোন বিমানে বা কখন এই হামলার চেষ্টা হয়েছিল, তা এখনও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি, যদিও ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনাটি এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।
এই ঘটনায় ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্চরের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। তার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং স্মিত মাচ্চরের বিচক্ষণতার প্রশংসা করেছেন এবং তাকে দেশের গর্ব বলে অভিহিত করেছেন।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে সন্ত্রাসবাদীরা সর্বদা নতুন নতুন উপায়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে এবং তাদের মোকাবিলায় সর্বদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হামাম আল-হাম্মামির চিহ্নিতকরণ এবং তার আল-কায়দা যোগের বিষয়টি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা প্রতিরোধের জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।








