‘নিজের বুথে হেরেও জননেত্রী?’ শুভেন্দুর কটাক্ষে বিধানসভায় ঋতব্রতদের ওয়াকআউট, বসে রইল ‘কালীঘাট তৃণমূল’

শুভেন্দুর মমতা-কটাক্ষে বিধানসভায় ঋতব্রতদের ওয়াকআউট, বসে রইল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। শাসকদলের অন্দরে বিভাজন স্পষ্ট। বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়।

Share:

নিউজ ব্যুরো, ২৩ জুন ২০২৬:  বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ ঘিরে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। নিজের বুথে হেরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জননেত্রী’ মানতে হবে কিনা, শুভেন্দুর এই প্রশ্ন শুনেই ওয়াকআউট করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করা, যার নেতৃত্বে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, কুণাল ঘোষ এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো মমতাপন্থী বিধায়করা নিজেদের আসনে বসে রইলেন। এই দৃশ্য বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় রাজ্যপালের বাজেট-ভাষণের উপর বক্তৃতা করার সময় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের বুথেই ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো কিছু মন্তব্যের উল্লেখ করে শুভেন্দু আরও আক্রমণ শানান। এই মন্তব্যের পরই বিধানসভায় তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়ে ওয়াকআউট করেন। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াকআউট করা বিধায়কদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শুনতে খারাপ লাগছে তো? মানুষ আপনাদের শিক্ষা দিয়েছে।’ এর পরেই শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, ‘কালীঘাট তৃণমূল থেকে গেল। নিজেদের আসল বলে দাবি করা তৃণমূল পালিয়ে গেল।’

ঘটনাচক্রে, এই ঋতব্রত গোষ্ঠীই সম্প্রতি তৃণমূলের দখল নেওয়ার দাবি করে দলের নবগঠিত কমিটি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়েছে। এর পরেই মমতাপন্থী কুণাল ঘোষ ঋতব্রতদের ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। শুভেন্দুর কটাক্ষের পর কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ঋতব্রতের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ঋতব্রতদের করুণ পরিণতি নিয়ে মন্তব্য করেন। এই ঘটনা শাসকদলের অন্দরে গভীর বিভাজনকেই স্পষ্ট করে তুলল।