তারাতলা বিপর্যয়ে গ্রেফতার সুপারভাইজার-সহ ৩, উদ্ধারকাজ চলছে; ঘটনাস্থলে মুখ্যসচিব-সহ পদস্থ আধিকারিকরা

ব্যুরো নিউজ, ২৪ জুন ২০২৬ঃ তারাতলা বিপর্যয়ের প্রায় ১০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে আটকে থাকা শ্রমিকদের আর্তনাদের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এই ঘটনায় গোডাউনের সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, লেবার সাপ্লায়ার মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ চৌধুরী-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুপুর থেকেই নিজে ঘটনার তদারকি করছেন এবং তাঁর নির্দেশেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-সহ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এখনও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। সেখানে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ‘নির্মাণের প্ল্যানেই গুরুতর ত্রুটি ছিল।’ একইসঙ্গে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত রকম বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি সাইটে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট চলবে।

ব্রেসব্রিজের কাছে একটি গোডাউন তৈরির কাজ চলাকালীন বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ হঠাৎ বেশ কিছু লোহার বিম ভেঙে পড়ে। জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময়ে সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতদের সঙ্গে দেখা করতে মুখ্যমন্ত্রী সন্ধেয় এসএসকেএম হাসপাতালে যান। এই গাফিলতির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

তারাতলা গুদাম দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ২১ থেকে ৫৬ বছর বয়সীদের নাম

ব্যুরো নিউজ, ২৪ জুন ২০২৬ঃ কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত ও আহতদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অন্তত ১৮ জন আটকে থাকতে পারেন। ইতিমধ্যেই ২২ জনকে উদ্ধার করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে ৪০ বছরের রোহিত চৌধুরী এবং ৩০ বছরের কৃষ্ণা চৌধুরী সহ একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫৬ বছরের দুর্বাসা মল্লান, ২২ বছরের মণি চাঁদ কুমার, ২৬ বছরের সাহিদ কুমার, ২৫ বছরের রাজেশ রুইদাস, ২৮ বছরের বিশ্ব প্রকাশ, ২৮ বছরের বোদান মুন্ডা, ৫৫ বছরের রাজেন্দ্র রাও এবং ২১ বছরের রামপ্রসাদ চৌধুরী প্রমুখের নাম জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সকাল থেকেই পাঁচতলা এই বহুতলের মূল লোহার কাঠামোটি বিপজ্জনকভাবে দুলছিল। দুপুরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সেই কাঠামো পরীক্ষা করতে গেলে সেটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, নির্মাণের নকশাতেই গুরুতর ত্রুটি ছিল। এই ঘটনার জেরে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতলের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি নির্মাণস্থলে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করা হবে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। গ্যাসকাটার ও জেসিবি ব্যবহার করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

তারাতলা বিপর্যয়ে ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কথা বললেন মন্ত্রী-পুলিশের সঙ্গে

ব্যুরো নিউজ, ২৪ জুন ২০২৬ঃ তারাতলার ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজ চলাকালীনই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ঘড়ির কাঁটায় প্রায় পৌনে পাঁচটা নাগাদ তিনি তারাতলায় পৌঁছন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত মন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন। এরপর উদ্ধারকাজে নিযুক্ত কর্মীদের কাছ থেকে পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট নেন।

নির্মাণকাজের দায়িত্বে কারা ছিলেন, কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, এই সব সংক্রান্ত তথ্যও তিনি সংগ্রহ করেন। বন্দর এলাকার জমিতে একটি চায়ের গুদাম তৈরি হচ্ছিল। বুধবার সেই নির্মীয়মাণ গুদামের তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গুদামের ছাদ, যার ফলে নিচে চাপা পড়েন বেশ কয়েকজন শ্রমিক।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পরে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনীও। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য আনা হয় অত্যাধুনিক গ্যাসকাটার, ক্রেন এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর পৌঁছনোর আগেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক রাকেশ সিং, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রী সকলের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের উপরও তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন।

কলকাতা থেকে সুন্দরবন সরাসরি বাস চালুর দাবিতে সরব পর্যটকরা

ব্যুরো নিউজ, ২৪ জুন ২০২৬ঃ  বাঙালির প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সুন্দরবন। কিন্তু কলকাতা থেকে সেখানে পৌঁছতে পর্যটকদের বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে এবার রাজ্য সরকারের কাছে কলকাতা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত সরাসরি বাস পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা। বর্তমানে কলকাতা থেকে সুন্দরবন যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে ক্যানিং এবং তারপর সেখান থেকে অটো ধরে ফেরিঘাটে পৌঁছাতে হয়। এই দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রার বদলে সরাসরি বাস পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের সুবিধা হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পর্যটকদের একাংশের মতে, কলকাতা থেকে দিঘা, বকখালি বা শিলিগুড়ির মতো বহু পর্যটন কেন্দ্রে সরাসরি বাস পরিষেবা থাকলেও সুন্দরবনের ক্ষেত্রে তা নেই। এই বৈষম্য দূর করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যদিও জানা গিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে বাসন্তী ও গোসাবা থেকে সরকারি বাস পরিষেবা চালু হয়েছিল, কিন্তু তা বেশিদিন চলেনি। বর্ষা ও ইলিশ উৎসবের মরসুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। এই সময়ে সরাসরি বাস পরিষেবা চালু হলে তা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। তাই রাজ্য সরকারের কাছে এই জরুরি পরিষেবার দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা, যা সুন্দরবন পর্যটনের প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।