বিধানসভায় খারিজ অভিষেকের চিঠি, বিরোধী দলনেতার ঘর না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়

অভিষেকের চিঠি খারিজ বিধানসভায়, বিরোধী দলনেতার ঘর না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার নিয়ম ভাঙতে নারাজ সচিবালয়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৮ই মে ২০২৬ঃ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার কক্ষ পাওয়া নিয়ে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছেন বালিগঞ্জের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবারও বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরটি তালাবন্ধই রইল। এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি, যাকে বিধানসভার সচিবালয় কোনোভাবেই মান্যতা দিতে রাজি নয়।

বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে সচিবালয়ে যে চিঠি পাঠানো হয়, তাতে সই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সচিবালয়ের আপত্তি এখানেই। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদীয় দল সংক্রান্ত যেকোনো চিঠি বা দাবি জানানোর এক্তিয়ার শুধুমাত্র সেই দলের বিধায়কদেরই রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার সাংসদ, বিধানসভার সদস্য নন। তাই তাঁর দেওয়া চিঠির কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে সচিবালয় স্পষ্ট জানিয়েছে। বিধানসভার সদস্য নন এমন ব্যক্তির চিঠির ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতার ঘর বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। সচিবালয়ের এই আপত্তির কথা স্পষ্ট করে দেওয়ার পরই এদিন বিধানসভা চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি তথ্যের অধিকার আইনে (RTI) একটি আবেদনও জানান। প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, অতীতে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার থাকাকালীন এমনটা ঘটেনি। তাঁর কথায়, “দরকার হলে এবারও রাস্তায় বসে যাব, কিন্তু কোনও আবেদন-নিবেদন করতে যাব না। এটা অন্যায়।” এদিন শেষ পর্যন্ত বিধানসভার অন্য একটি ঘরে বসে কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়দের নিয়ে কাজ চালান তিনি।

সচিবালয় সাফ জানিয়েছে, কারও কথায় বিধানসভার রুল ভাঙা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার রুল বুক নিয়ে এই দড়িটানাটানি আসলে তৃণমূল জমানারই এক ‘স্মারক’। ২০১৬ সালের পর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে সুযোগ না দিয়ে তৃণমূল যেভাবে তৎকালীন স্পিকারকে দিয়ে পিএসি (PAC) চেয়ারম্যান পদ নিজেদের ইচ্ছেমতো বণ্টন করেছিল, তা ছিল বেনজির। আজ সেই রুল বুক দেখিয়েই সচিবালয় পাল্টা জবাব দিচ্ছে তৃণমূলকে। বিধানসভা সূত্রে স্পষ্ট বার্তা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির জন্য নিয়ম ভাঙা হবে না।