ইন্দ্রনীলের টাকা মমতার অ্যাকাউন্টেও! দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতিতে বিস্ফোরক ইডি, নজরে প্রাক্তন মন্ত্রী

দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতিতে ইডির নজরে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। মমতার অ্যাকাউন্টেও টাকা পাঠানোর অভিযোগ। ৬০ কোটির বেশি আর্থিক অনিয়মের তদন্ত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১ অক্টোবর ২০২৬: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস বিক্রি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতার ১৫টি ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছে। এই মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং ‘ম্যাসআর্ট’ সংস্থার কর্তারা ইডির নজরে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইডির প্রকাশিত বিবৃতিতে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, তদন্তে নেমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আর্থিক লেনদেনের হদিস মিলেছে।

ইডি সূত্রে খবর, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে ‘ম্যাসআর্ট’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল টাকা তোলা হয়েছে। অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইউনেস্কোর অনুমোদিত সংস্থা দাবি করে এই টাকা তোলা হয়, যা পরে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ইউনেস্কোর সঙ্গে ‘ম্যাসআর্ট’-এর কোনও সরকারি যোগের প্রমাণ মেলেনি। তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতার ২৪টি বাছাই করা পুজো মণ্ডপে ‘প্রিভিউ শো’ দেখার জন্য ১ হাজার ৭৪৯ টাকা থেকে ৫ হাজার ৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এক লক্ষেরও বেশি টিকিট বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে। শুধু টিকিট বিক্রিই নয়, তৃণমূল আমলে মন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক সরকারি টেন্ডার নিয়ম ভেঙে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। সেই সব সংস্থা থেকে বিপুল টাকা আবার ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রিত সংস্থায় পাঠানো হয় এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচুর নগদ টাকা তোলা হয় বলে ইডি জানিয়েছে। এই সামগ্রিক দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।