কলকাতা বিমানবন্দরের ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ স্থানান্তরে গতি, রানওয়ের নিরাপত্তা ও বড় বিমানের অবতরণে সায় নবান্নর

কলকাতা বিমানবন্দরের ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ স্থানান্তরে গতি। রানওয়ের নিরাপত্তা ও বড় বিমানের অবতরণের স্বার্থে নবান্নর সায়। জানুন বিস্তারিত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২২ মে ২০২৬ঃ কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘ তিন দশক ধরে চলে আসা একটি বড় জট অবশেষে কাটতে চলেছে। বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকার ভিতরে থাকা ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ (কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদ) স্থানান্তরের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে।

সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সায় পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (AAI) আধিকারিকরা যৌথভাবে মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন। এরপর মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর বিক্রম সিং জানিয়েছেন, এই মসজিদের অবস্থানের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে কারিগরি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থায়ী কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু এই মসজিদটি সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। এর ফলে বিমানের এপ্রোচ পাথ সরাতে হতো এবং রানওয়ের দৈর্ঘ্য কমে যেত, যার কারণে বোয়িং ৭৮৭ বা এয়ারবাস এ৩৩০-এর মতো বড় আন্তর্জাতিক বিমান অবতরণ করতে পারত না। এছাড়াও, শীতকালে কুয়াশার সময় প্রধান রানওয়ে বন্ধ থাকলে সেকেন্ডারি রানওয়ে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মসজিদের উপস্থিতির কারণে সেখানে আধুনিক ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) ইনস্টল করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ১৩৬ বছর আগে যখন মসজিদটি তৈরি হয়েছিল, তখন চারপাশ জনশূন্য ছিল। পরবর্তীকালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের ফলে এটি বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে চলে আসে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমান রাজ্য সরকার এই দ্রুত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।