ব্যুরো নিউজ, ১১ জুন ২০২৬ঃ দিনবদলের বাংলায় আজ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখল তিলোত্তমা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতার দাপট যে কত দ্রুত ফিকে হতে পারে, আজ দমদম বিমানবন্দর তার জীবন্ত সাক্ষী হয়ে রইল। একসময়ের দাপুটে নেতা, যাঁকে একদা গোটা রাজ্য সমীহ করত, আজ দিল্লির বিমান থেকে নামতেই তাঁর চারপাশ কোনো ‘স্বাগত’ বার্তায় ভরল না, বরং ধেয়ে এল তীব্র স্লোগান – “চোর… চোর… চোর!” খাস কলকাতার বুকে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বুঝিয়ে দিল জনতার রোষের পারদ ঠিক কোথায় চড়েছে।
সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে আজ তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব, যেন মুখে কুলুপ এঁটেছেন। গাড়ির কাচ তোলা, বাইরে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়েই সোজা গন্তব্যের দিকে রওনা দেন তিনি। কেন এই মৌনব্রত? কেন এই লুকোচুরি? একদা যাঁদের ইশারায় বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, আজ তাঁরাই জনতার সোজাসুজি প্রশ্নের সামনে এতটা কোণঠাসা? পলায়ন বা এড়িয়ে যাওয়ার রাস্তা আজ আদালতই বন্ধ করে দিয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই ভবানী ভবনে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে। বিধানসভায় সই জালিকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগে জেরার মুখোমুখি হওয়া থেকে বাঁচতে দিল্লি ছুটেও কোনো লাভ হয়নি। ২১ দিনের আইনি রক্ষাকবচ মিললেও, তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া থেকে রেহাই মেলেনি। আজকের এই দৃশ্য প্রমাণ করে, রাজনৈতিক ছাতা সরে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কীভাবে রাজপথ থেকে বিমানবন্দর গ্রাস করতে পারে। আইন নিজের পথেই চলবে, তবে জনতার আদালতে আজ যা ঘটল, তা এক নতুন বার্তা দিয়ে গেল।








