ব্যুরো নিউজ, ৪ জুন ২০২৬ঃ বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার তিনি পুর কমিশনারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইস্তফার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কৃষ্ণা চক্রবর্তী বিধাননগর পুরনিগমের প্রথম মহিলা মেয়র হিসেবে পরিচিত।
২০১৯ সাল থেকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন এবং শহরের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র সেক্টর ফাইভ এবং নিউ টাউন সংলগ্ন এই পুরনিগমের প্রশাসনিক গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে মেয়রের এই পরিবর্তন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরে সাংগঠনিক রদবদল এবং নতুন নেতৃত্ব আনার প্রক্রিয়া চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগকে অনেকেই বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখছেন। যদিও পদত্যাগ মানেই যে কোনও অসন্তোষ, এমনটা মানতে নারাজ বিশ্লেষকদের একাংশ।
তাঁদের মতে, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দায়িত্বের কথা মাথায় রেখেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিধাননগরের পরবর্তী মেয়র কে হতে চলেছেন। তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রতিফলন বললেও, তৃণমূল নেতৃত্ব তা মানতে নারাজ। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন মেয়র নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত নাগরিক পরিষেবা বা চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে কোনও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না। তবে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ইস্তফা যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপেই এই জল্পনার অনেকটাই নিরসন হবে।








