ব্যুরো নিউজ, ২৫ মে ২০২৬ : লেকটাউনে লিওনেল মেসির ৭০ ফুটের বিশাল মূর্তি ভাঙার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের জেরেই এই পদক্ষেপ। জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে সোমবার রাতেই এই বিতর্কিত মূর্তিটি সরানোর কাজ শুরু হতে পারে।
পুলিশ সূত্রে খবর, লেকটাউন থানায় ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ পৌঁছেছে। এর আগে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে মেসির অন্য একটি মূর্তি ভাঙা নিয়ে চর্চা শেষ না হতেই লেকটাউনের এই মূর্তি নতুন করে শিরোনামে এল। গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মেসি ভার্চুয়ালি এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। সে সময় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা গেলেও, কয়েক মাসের মধ্যেই মূর্তিটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। কলকাতার ভিআইপি রোডের উপর স্থাপিত এই বিশাল কাঠামোটি দ্রুত আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের এমন মূর্তি তৈরি হওয়ায় অনেকেই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মূর্তিটি ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে নেই। জোর হাওয়া দিলেই এটি দুলতে শুরু করে এবং এর কাঠামো তলার মাটি আলগা হয়ে গিয়েছে। যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এই আশঙ্কায় স্থানীয়রা লেকটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের দাবি, এত বড় মূর্তি তৈরির ক্ষেত্রে পূর্ত দফতরের অনুমতি বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) নেওয়া হয়নি, যা নিরাপত্তা বিধির পরিপন্থী। এই মূর্তি তৈরির দায়িত্বে ছিল লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, যার সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তবে মূর্তি তৈরির পর থেকেই এর চেহারা নিয়ে বিতর্ক ছিল; অনেকের মতে, মেসির মুখের সঙ্গে মূর্তির মিল নেই, বরং এটি বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশনের মতো দেখতে। পুলিশ, পূর্ত দফতর এবং বিধাননগর পুরসভার আধিকারিকেরা সোমবার জায়গাটি খতিয়ে দেখবেন। সব মিলিয়ে, যে মূর্তি একসময় আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল, সেটিই এখন নিরাপত্তা ও বিতর্কের জালে।








