মমতার ভরসা পুরোনোতেই, দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হলেন মদন মিত্র

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসায় পুরোনো সৈনিক মদন মিত্র। নবগঠিত দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব পেলেন কামারহাটির বিধায়ক।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৪ মে ২০২৬ : রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তৃণমূল কংগ্রেসের কঠিন সময়ে যখন দলের অন্দরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে, তখনও বরাবরের মতোই নেতৃত্বের পাশে থেকেছেন তিনি। আর এই আনুগত্য ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কেরই যেন পুরস্কার মিলল এবার। দলের সাংগঠনিক রদবদলে মদন মিত্রের কাঁধে এক বড় দায়িত্ব তুলে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের বহু পুরনো সঙ্গী মদন মিত্র। কংগ্রেস আমল থেকেই দুজনের রাজনৈতিক পথচলা একসঙ্গে। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে তিনিও যোগ দেন ঘাসফুল শিবিরে। এবার দলের ‘দুঃসময়ে’ সেই বিশ্বস্ত সৈনিককেই বাড়তি দায়িত্ব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নবগঠিত দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদে বসানো হল মদন মিত্রকে।

উল্লেখ্য, এর আগে তৃণমূলের আলাদা করে দমদম সাংগঠনিক জেলা ছিল না। তৃণমূল নেতৃত্ব এবার নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো সাজিয়ে দমদম সাংগঠনিক জেলা তৈরি করেছে। আর সেই জেলার দায়িত্বই তুলে দেওয়া হয়েছে কামারহাটির বিধায়কের হাতে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের নির্বাচনে কামারহাটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। যদিও ২০১৬ সালের ভোটে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। পরে ২০২১ সালে আবারও সেই কেন্দ্র থেকেই জিতে বিধানসভায় ফেরেন। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির আবহেও নিজের আসন অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন মদন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভায় ধাক্কার পর এবার লোকসভাকে পাখির চোখ করেছে রাজ্যের শাসক দল। আর দমদম লোকসভা কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখতেই কি পুরনো বিশ্বস্ত সঙ্গী মদন মিত্রের উপরেই ভরসা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বিজেপির মতো তৃণমূলও কি এবার প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্র ধরে সংগঠন সাজাতে চাইছে, সেই প্রশ্নও উঠছে।