জনরোষের ভয়ে মমতার বৈঠক এড়াচ্ছেন একাধিক তৃণমূল বিধায়ক, দলের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি

জনরোষের ভয়ে কালীঘাটে মমতার ডাকা বৈঠক এড়াচ্ছেন একাধিক তৃণমূল বিধায়ক। অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার পর দলের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩১ মে ২০২৬ঃ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর পরপর হামলার ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে একাধিক বিধায়কের মধ্যে অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। দলের একাংশের আশঙ্কা, বর্তমানে বাইরে বেরোলেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে। রবিবার বিকেল ৪টেয় জয়ী তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

তবে দলীয় সূত্রে খবর, অনেক বিধায়কই বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই বিধায়কদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পরপর দু’দিন দুই শীর্ষ নেতার উপর এমন ঘটনা দলের অন্দরে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বেশ কয়েকজন বিধায়ক বৈঠকে যোগ নাও দিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিধায়ক জানান, বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও কিছু দায় রয়েছে।

আরেক বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বললেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বক্তব্যের ফল বলে উল্লেখ করেন। কয়েকজন বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনরোষের আশঙ্কায় তাঁরা কালীঘাট পৌঁছনোর আগেই সমস্যায় পড়তে পারেন, তাই তাঁরা বৈঠকে যাবেন না। অনেক বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে সহানুভূতিশীল হলেও প্রকাশ্যে জনমতের বিরুদ্ধে যেতে চাইছেন না। বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০। বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে অন্তত ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির নোটিসও দলের উপর চাপ বাড়িয়েছে।